শুনানিতে যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে:
-
ভূ-রাজনীতি ও সামরিক দিক: ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ, ভারত মহাসাগরে নৌ-চলাচলের অধিকার এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।
-
অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নির্ভরতা: সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতের আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা।
-
নিরাপত্তা স্বার্থ: ভারত ও চীনের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর কী প্রভাব ফেলছে তার মূল্যায়ন।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা কাটতে শুরু করেছে। ২০২৪-এর ব্রিকস সম্মেলনে মোদী-শি জিনপিং বৈঠক এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘ সাত বছর পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মোড় দিয়েছে।
-
পাঁচ বছর পর দুদেশের মধ্যে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
-
চীনা বিনিয়োগের পথ ধাপে ধাপে (Graded) খুলে দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
ভারতের এই ‘উষ্ণ কূটনৈতিক অবস্থান’ ওয়াশিংটনের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে চীনের বিকল্প শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিপুল সামরিক ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ করেছে।
এই শুনানির ঠিক পরেই ২০২৬ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, চীন বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বেইজিংয়ের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখলেও চীনকে চাপে রাখতে ভারতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার নীতি থেকে সরছে না ওয়াশিংটন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুনানি মূলত নয়াদিল্লির প্রতি ওয়াশিংটনের একটি ‘সতর্ক বার্তা’। ভারত যদি বেইজিংয়ের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়ে, তবে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই ত্রিভুজ সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক লড়াইয়ের প্রভাব পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পড়বে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির শুনানির পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।








