সানিয়া বলেন, “সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল আমার জীবন শেষ। কবজির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে আমি নিজের চুল পর্যন্ত আঁচড়াতে পারতাম না।” দীর্ঘ দেড় মাস তিনি নিজেকে ঘরের কোণে বন্দি করে রেখেছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমি অনুভব করছিলাম যে আমি আমার বাবা-মাকে হতাশ করছি। তখন আমি বুঝতেই পারিনি যে আমি বিষণ্নতায় (Depression) ভুগছি।”
পডকাস্টে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শ্যাম ভাট বলেন, সফল মানুষের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা প্রায়ই ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। তারা তাদের মানসিক কষ্টকে কাজের মাধ্যমে বা সৃজনশীলতার মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা করেন। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় অনেক সময় ‘হাই-ফাংশনিং ডিপ্রেশন’ বলা হয়।
সংগঠনগত মনোবিজ্ঞানী গুরলিন বারুয়া এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করেন যে, যখন কেউ নিয়মিত সফল হতে থাকেন, তখন তাঁদের আত্মসমীক্ষার সুযোগ কমে যায়। বাইরে সব ঠিকঠাক চলায় ভেতরের কষ্টকে তাঁরা স্বাভাবিক বলে ধরে নেন। এটি মূলত টিকে থাকার একটি মানসিক কৌশল (Coping Mechanism)।
বারুয়ার মতে, অ্যাথলেট বা করপোরেট কর্মীদের ওপর ক্রমাগত মূল্যায়নের চাপ থাকে। ফলে তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তাদের ব্যক্তিগত মূল্য কেবল তাদের ‘আউটপুট’ বা পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ, আত্মসংশয় এবং চরম মানসিক ক্লান্তির দিকে ঠেলে দেয়।
সানিয়া মির্জা তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সাহায্য চাওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ এবং আবেগগত পরিপক্বতার পরিচয়।








