Search
Close this search box.

রুপালি ইলিশের পেছনে সমুদ্রজয়ের কাহিনি

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

রুপালি ইলিশের খোঁজে ঘোড়ার গতিতে ছুটে চলে উপকূলীয় জেলেদের ট্রলারগুলো। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে, উত্তাল সাগরের ঢেউ আর ঝড়-বৃষ্টির প্রতিকূলতা সামলে তাদের যেতে হয় গভীর সমুদ্রে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এই ট্রলারগুলোই হয়ে ওঠে জেলেদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।

এই ট্রলারগুলো তৈরি করা হয় বিশেষভাবে দ্রুতগতিসম্পন্ন করে, যাতে স্রোতের বিপরীতেও সহজে চলতে পারে। সাধারণত ঘণ্টায় ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার এবং অনুকূলে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম এসব ট্রলার। ব্যবহৃত হয় সুজুকি ও ইসুজু কোম্পানির রিকন্ডিশন ইঞ্জিন, যার ক্ষমতা ১৪০ থেকে ২৯০ হর্সপাওয়ার পর্যন্ত।

ইলিশ ধরার ট্রলার সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ ফুট লম্বা এবং ১৪ থেকে ১৫ ফুট চওড়া হয়ে থাকে। উপকূলীয় ডক ইয়ার্ডগুলোতে গর্জন, চাম্বল, ত্রিশূলসহ শক্ত কাঠ দিয়ে এসব ট্রলার নির্মাণ করা হয়। কাঠামো তৈরির পর ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে গলুই, ছই, রান্নাঘর ও অন্যান্য অংশ।

নির্মাণ প্রক্রিয়ায় প্রথমে কাঠমিস্ত্রিরা মূল কাঠামো তৈরি করেন। এরপর শুরু হয় জোড়া লাগানোর কাজ, যাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘গাইনির কাজ’। পরে পুটিং, আলকাতরা ও কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে ট্রলারকে সমুদ্র উপযোগী করা হয়। সবশেষে বসানো হয় ইঞ্জিন ও প্রপেলার। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বহু শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করেন, সময় লাগে প্রায় এক মাস।

ডক ইয়ার্ডে প্রতিদিন ট্রলার রাখার জন্য গুনতে হয় নির্দিষ্ট ভাড়া, আর মিস্ত্রিদের দৈনিক মজুরি নিয়েও চলে কঠিন হিসাব-নিকাশ। ইলিশ মৌসুমে না থাকলে এই ডক ইয়ার্ডগুলোতেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় ট্রলার নির্মাণ ও মেরামতের কাজ নিয়ে।

সমুদ্রযাত্রার আগে ট্রলারে রাখা হয় মাছ সংরক্ষণের বরফ, জাল-দড়ি, বয়া, কাচি, ওষুধ, খাবার পানি ও শুকনো খাবারসহ সব প্রয়োজনীয় সামগ্রী। কারণ, এসব ট্রলার ১০ থেকে ১৫ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকে, ডাঙা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায়।

যাত্রা শেষে যখন ট্রলারগুলো মাছভর্তি হয়ে ফিরে আসে, তখন উপকূলজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। জেলেদের কাছে এটি যেন এক যুদ্ধজয়ের আনন্দ—সমুদ্রকে জয় করে ফিরে আসার গর্ব।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ