ইলিশ ধরার ট্রলার সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ ফুট লম্বা এবং ১৪ থেকে ১৫ ফুট চওড়া হয়ে থাকে। উপকূলীয় ডক ইয়ার্ডগুলোতে গর্জন, চাম্বল, ত্রিশূলসহ শক্ত কাঠ দিয়ে এসব ট্রলার নির্মাণ করা হয়। কাঠামো তৈরির পর ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে গলুই, ছই, রান্নাঘর ও অন্যান্য অংশ।
নির্মাণ প্রক্রিয়ায় প্রথমে কাঠমিস্ত্রিরা মূল কাঠামো তৈরি করেন। এরপর শুরু হয় জোড়া লাগানোর কাজ, যাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘গাইনির কাজ’। পরে পুটিং, আলকাতরা ও কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে ট্রলারকে সমুদ্র উপযোগী করা হয়। সবশেষে বসানো হয় ইঞ্জিন ও প্রপেলার। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বহু শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করেন, সময় লাগে প্রায় এক মাস।
ডক ইয়ার্ডে প্রতিদিন ট্রলার রাখার জন্য গুনতে হয় নির্দিষ্ট ভাড়া, আর মিস্ত্রিদের দৈনিক মজুরি নিয়েও চলে কঠিন হিসাব-নিকাশ। ইলিশ মৌসুমে না থাকলে এই ডক ইয়ার্ডগুলোতেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় ট্রলার নির্মাণ ও মেরামতের কাজ নিয়ে।
সমুদ্রযাত্রার আগে ট্রলারে রাখা হয় মাছ সংরক্ষণের বরফ, জাল-দড়ি, বয়া, কাচি, ওষুধ, খাবার পানি ও শুকনো খাবারসহ সব প্রয়োজনীয় সামগ্রী। কারণ, এসব ট্রলার ১০ থেকে ১৫ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকে, ডাঙা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায়।
যাত্রা শেষে যখন ট্রলারগুলো মাছভর্তি হয়ে ফিরে আসে, তখন উপকূলজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। জেলেদের কাছে এটি যেন এক যুদ্ধজয়ের আনন্দ—সমুদ্রকে জয় করে ফিরে আসার গর্ব।








